Tag: anaji kola

  • বাংলাদেশের জনপ্রিয় ৬ জাতের কলা: বৈশিষ্ট্য, পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা

    কলা আমাদের দেশে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকা অন্যতম পুষ্টিকর ও শক্তির উৎস। এতে থাকা পটাশিয়াম, ভিটামিন B6, ভিটামিন C, ডায়াটারি ফাইবার এবং প্রাকৃতিক শর্করা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখা এবং হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করতে দারুণ ভূমিকা রাখে।

    ৬ জাতের কলার পরিচিতি, বৈশিষ্ট্য ও গুণাগুণ:

    ১. সাগর কলা

    সাগর কলা

    বৈশিষ্ট্য: আকারে বেশ বড়, লম্বা ও ছাল মসৃণ। পাকার পর চমৎকার হলুদ রঙ ধারণ করে এবং ভেতরের অংশ নরম ও মাখনের মতো হয়।

    গুণাগুণ: প্রচুর পটাশিয়াম ও প্রোটিন সমৃদ্ধ। শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের পর শরীরকে দ্রুত রিচার্জ করতে ও মাংসপেশির টান দূর করতে এটি সবচেয়ে কার্যকর।

    ২. সবরি কলা

    সবরি কলা

    বৈশিষ্ট্য: মাঝারি আকৃতির, খোসা বেশ পাতলা ও সুগন্ধযুক্ত। পাকলে গায়ের রং উজ্জ্বল গাঢ় হলুদ হয় এবং স্বাদ বেশ মিষ্টি।

    গুণাগুণ: এটি অত্যন্ত সুপাচ্য। পেট ঠান্ডা রাখতে, এসিডিটি কমাতে এবং শিশু ও বয়স্কদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সবরি কলা উপযোগী।

    ৩. চিনি চম্পা কলা

    চিনি চম্পা কলা

    বৈশিষ্ট্য: আকারে ছোট ও চ্যাপ্টা। খোসায় ছোপ ছোপ ছোট তিল বা কালো দাগ থাকে এবং এর স্বাদ তীব্র মিষ্টি।

    গুণাগুণ: উচ্চমাত্রার ফাইবার থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে দারুণ কাজ করে। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

    ৪. বাংলা কলা

    বাংলা কলা

    বৈশিষ্ট্য: তুলনামূলকভাবে বেশ মোটা ও কোণাকৃতির। পাকার পর খোসা হালকা তামাটে বা লালচে-হলুদ বর্ণ ধারণ করে।

    গুণাগুণ: রক্তের হিমোগ্লোবিন বাড়াতে এতে থাকা আয়রন ও খনিজ উপাদান সাহায্য করে। রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য এটি দারুণ পথ্য।

    ৫. বিচি কলা (আটিয়া কলা)

    বিচি কলা (আটিয়া কলা)

    বৈশিষ্ট্য: ঐতিহ্যবাহী দেশি জাত, যার ভেতরের অংশে শক্ত বিচি থাকে। খোসা কিছুটা মোটা এবং মাংসল অংশ মিষ্টি ও শক্ত।

    গুণাগুণ: পেটের নানাবিধ সমস্যা, বিশেষ করে আমাশয় বা পাতলা পায়খানা নিয়ন্ত্রণে এটি ভেষজ ওষুধ হিসেবে কাজ করে। এটি ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস।

    ৬. আনাজি কলা (কাঁচা কলা)

    আনাজি কলা (কাঁচা কলা)

    বৈশিষ্ট্য: সবুজ রঙের এই কলা পাকা অবস্থায় ফল হিসেবে না খেয়ে কাঁচা অবস্থায় তরকারি বা রান্না করে খাওয়া হয়।

    গুণাগুণ: এতে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ বেশি থাকে এবং সুগার কম থাকে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ। গ্যাস্ট্রিক ও পেটের আলসার নিরাময়ে আনাজি কলা বেশ উপকারী।

    ৬ ধরনের কলার পুষ্টিগুণের তুলনামূলক তালিকা (প্রতি ১০০ গ্রামে আনুমানিক)

    কলার নামক্যালরি (Kcal)শর্করা (g)পটাশিয়াম (mg)ফাইবার (g)প্রধান পুষ্টি উপাদান ও বৈশিষ্ট্য
    সাগর কলা৯২২৩.৫৩৫৮২.৬উচ্চ পটাশিয়াম ও ইলেকট্রোলাইট
    সবরি কলা৯৮২৫.০৩৫০২.৪ভিটামিন B6, C ও সুপাচ্য শর্করা
    চিনি চম্পা১০২২৭.২৩৪০৩.১ডায়াটারি ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
    বাংলা কলা৮৮২২.৮৩৬০২.৮আয়রন ও প্রয়োজনীয় মিনারেল
    বিচি কলা৯৫২৪.০৩৩০৩.৫ক্যালসিয়াম ও পেটের পথ্যগুণ
    আনাজি কলা৭৮১৮.৫৩৭০৩.২রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ ও কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স