Author: admin

  • বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ: সুবিধা, অসুবিধা ও পানি প্রস্তুতের সঠিক নিয়ম

    বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ: সুবিধা, অসুবিধা ও পানি প্রস্তুতের সঠিক নিয়ম

    বর্তমান সময়ে কম জায়গায় ও স্বল্প খরচে অধিক মাছ উৎপাদনের জন্য বায়োফ্লক (Biofloc) একটি অত্যন্ত আধুনিক ও লাভজনক প্রযুক্তি। বাংলাদেশে এই পদ্ধতিতে তেলাপিয়া, শিং, মাগুর, পাবদা, কইসহ নানা জাতের মাছ সফলভাবে চাষ করা হচ্ছে।
    আপনি যদি অল্প জায়গায় উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে মাছ চাষ শুরু করতে চান, তবে বায়োফ্লক হতে পারে একটি দারুণ মাধ্যম। আজকের পোস্টে আমরা বায়োফ্লকের সুবিধা-অসুবিধা, পানি প্রস্তুত করার নিয়ম এবং চাষ পদ্ধতির বিস্তারিত আলোচনা করব।

    বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ

    বায়োফ্লক পদ্ধতি কী?

    বায়োফ্লক হলো এমন একটি পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি, যেখানে ট্যাংকের পানিতে অণুজীব (Microorganisms), উপকারী ব্যাকটেরিয়া ও খাবার অবশিষ্টাংশ একপ্রকারের পুষ্টিকর পিণ্ড বা “ফ্লক” তৈরি করে। এই ফ্লক পানির ক্ষতিকর বিষাক্ত গ্যাস (যেমন- অ্যামোনিয়া) শোষণ করে এবং নিজেই মাছের প্রাকৃতিক প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য হিসেবে কাজ করে।

    বায়োফ্লক পদ্ধতির সুবিধা ও অসুবিধা

    প্রধান সুবিধা:

    • কম জায়গা ও পানির ব্যবহার: পুকুরের মতো বিশাল জায়গার প্রয়োজন নেই। অল্প জায়গায় ট্যাংক স্থাপন করে বেশি পরিমাণ মাছ চাষ করা যায়।
    • খাবার খরচ কম: ট্যাংকে তৈরি হওয়া ফ্লক মাছের বাড়তি খাদ্য হিসেবে কাজ করায় প্রসেসড ফিডের খরচ ২০–৩০% পর্যন্ত কমে যায়।
    • অ্যামোনিয়া নিয়ন্ত্রণ: ক্ষতিকর বিষাক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস উপকারী ব্যাকটেরিয়া দ্বারা প্রোটিনে রূপান্তরিত হয়।
    • পরিবেশবান্ধব ও পানি পুনর্ব্যবহার: ঘন ঘন পানি পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না, ফলে পানির অপচয় প্রতিরোধ করা সম্ভব।

    সম্ভাব্য অসুবিধা ও চ্যালেঞ্জ:

    • নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন: এয়ারেশন (Aeration) পাম্পের মাধ্যমে পানিতে সার্বক্ষণিক অক্সিজেন সরবরাহ রাখতে হয়। বিদ্যুৎ বেশিক্ষণ বন্ধ থাকলে মাছের ক্ষতি হতে পারে।
    • নিয়মিত মনিটরিং: পানির pH, TDS, DO (ডিজলভড অক্সিজেন) এবং অ্যামোনিয়া নিয়মিত স্কেল দিয়ে মেপে দেখতে হয়।
    • কারিগরি জ্ঞানের প্রয়োজন: ব্যাকটেরিয়া ও সি:এন রেশিও (Carbon to Nitrogen ratio) বজায় রাখা এবং পানির গুণমান নিয়ন্ত্রণে সঠিক জ্ঞানের অভাব থাকলে ক্ষতির ঝুঁকি থাকে।

    বায়োফ্লক ট্যাংকের পানি ও ফ্লক প্রস্তুতের নিয়ম

    ট্যাংকে মাছ ছাড়ার আগে পানির গুণগত মান সঠিক করা এবং উপকারী ফ্লক তৈরি করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
    ১. প্রাথমিক পানি প্রস্তুতি:

    • ট্যাংকে পরিষ্কার পানি দিয়ে পূর্ণ করুন এবং এয়ারেশন চালু রাখুন।
    • পানিতে জীবাণু থাকলে প্রতি ১,০০০ লিটার পানির জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণে চুন বা ব্লিচিং দিয়ে ২৪–৪৮ ঘণ্টা ভালো করে এয়ারেশন দিন যাতে ক্লোরিন উঠে যায়।
      ২. উপাদান যোগ করা (প্রতি ১,০০০ লিটার পানির আনুমানিক হিসাব):
    • লবণ: ৩০০–৫০০ গ্রাম ক্রুড র’ সল্ট (Non-iodized salt)।
    • চুন (CaCO3/Dolomite): ৫০–১০০ গ্রাম (পানির pH ৭.৫ থেকে ৮.২-এর মধ্যে রাখতে)।
    • চিটাগুড় (Molasses): ৫০–১০০ গ্রাম (কার্বনের উৎস হিসেবে)।
    • প্রোবায়োটিক (Probiotic): ২–৫ গ্রাম (উন্নতমানের বায়োফ্লক প্রোবায়োটিক)।
      ৩. ফ্লক তৈরির ধাপ:
      ১. একটি পাত্রে হালকা গরম পানি নিয়ে তাতে চিটাগুড় ও প্রোবায়োটিক মিশিয়ে ৮–১২ ঘণ্টা রেখে কালচার (Floc Culture) বানিয়ে নিন।
      ২. এই মিশ্রণটি ট্যাংকের পানিতে ঢেলে দিন এবং টানা ৫–৭ দিন নিবিড়ভাবে এয়ারেশন চালু রাখুন।
      ৩. ইমহফ কোণ (Imhoff Cone) দিয়ে মেপে যদি পানির প্রতি লিটারে ১–২ মিলিগ্রাম ফ্লক জমে, তবে বুঝতে হবে পানি মাছ ছাড়ার জন্য উপযুক্ত হয়েছে।
      চাষ ও পরিচর্যার মূল নিয়মাবলি
    • সঠিক পোনা নির্বাচন: সুস্থ, সবল ও এক সাইজের পোনা বিশ্বস্ত হ্যাচারি থেকে সংগ্রহ করুন। পোনা ছাড়ার আগে তা ভালো করে শোধন (Acclimatization) করে নিন।
    • পরিমিত খাদ্য প্রদান: মাছের শরীরের ওজনের ২–৫% হারে খাবার দিন। অতিরিক্ত খাবার পানির অ্যামোনিয়া বাড়িয়ে দেয়।
    • নিয়মিত ওয়াটার প্যারামিটার চেক:
      • pH: ৭.৫ – ৮.৫
      • TDS: ১০০০ – ১৫০০ ppm
      • TDS/Salinity: মাছের প্রজাতি অনুযায়ী নির্ধারিত
      • DO (অক্সিজেন): ৫ mg/L-এর উপরে
    • সি:এন রেশিও বজায় রাখা: অ্যামোনিয়া বৃদ্ধি পেলে পরিমাণমতো চিটাগুড় বা মোল্যাসেস যোগ করে সি:এন রেশিও ১০:১ থেকে ১৫:১ বজায় রাখতে হয়।

    সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা মেনে চললে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে অল্প সময়েই লাভজনক ব্যবসা গড়ে তোলা সম্ভব।


    কৃষি ও খামার সম্পর্কিত নিত্যনতুন টিপস এবং পরামর্শ পেতে সোহাগ এগ্রো (Sohag Agro)-এর সঙ্গেই থাকুন। আপনাদের কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করে জানাতে পারেন!


  • সুস্থ মাটি, সমৃদ্ধ কৃষি

    সুস্থ মাটি, সমৃদ্ধ কৃষি

    রাসায়নিক সারের ভয়াবহতা ও জৈব সারের গুরুত্ব


    বর্তমান যুগে ফসলের দ্রুত বৃদ্ধি এবং সাময়িক উৎপাদন বাড়ানোর আশায় জমিতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে রাসায়নিক সার (যেমন: ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি) ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু সাময়িক সুবিধার আড়ালে এই রাসায়নিক সার আমাদের মাটি, পরিবেশ এবং জনস্বার্থের জন্য দীর্ঘমেয়াদী মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।
    নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও টেকসই কৃষির জন্য আমাদের এখনই সতর্ক হতে হবে এবং রাসায়নিক সারের ক্ষতিকর প্রভাবগুলো সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

    ⚠️ রাসায়নিক সার ব্যবহারের মারাত্মক ক্ষতিকর দিকসমূহ:

    • ১. মাটির প্রাণশক্তি ও উপকারী অনুজীব ধ্বংস:
      অতিরিক্ত রাসায়নিক সার মাটিকে অতিরিক্ত অম্লীয় (Acidic) বা ক্ষারীয় করে ফেলে। ফলে মাটিতে থাকা উপকারী অণুজীব, ব্যাকটেরিয়া এবং কেঁচো মারা যায়, যা মাটির প্রাকৃতির উর্বরতা স্থায়ীভাবে নষ্ট করে।
    • ২. মাটি শক্ত হওয়া ও জলধারণ ক্ষমতা হ্রাস:
      রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটির প্রাকৃতিক গঠন বা টেক্সচার নষ্ট হয়ে যায়। মাটি ধীরে ধীরে শক্ত ও কড়া হয়ে পড়ে, ফলে মাটির ভেতরে বাতাস ও পানি চলাচলের ক্ষমতা কমে যায়।
    • ৩. জনস্বাস্থ্য ও খাবারের বিষাক্ততা:
      ফসলে প্রয়োগ করা রাসায়নিক সারের অবশিষ্টাংশ খাদ্যের মাধ্যমে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। দীর্ঘমেয়াদে যা ক্যানসার, কিডনি ব্যাধি, লিভারের সমস্যা এবং হৃদরোগসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
    • ৪. পানি ও পরিবেশ দূষণ:
      বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে রাসায়নিক সার খাল, বিল, পুকুর ও ভূগর্ভস্থ পানিতে মিশে যায়। এতে পানির গুণমান নষ্ট হয় এবং জলজ প্রাণী ও মাছের মারাত্মক ক্ষতি হয়।
    • ৫. প্রাকৃতিক স্বাদ ও পুষ্টিগুণ হ্রাস:
      রাসায়নিক সার ব্যবহারে ফসল দ্রুত বড় বা দেখতে আকর্ষণীয় হলেও ফল ও সবজির আসল স্বাদ, সুগন্ধ এবং পুষ্টিগুণ স্বাভাবিক জৈব ফসলের চেয়ে অনেক কম হয়।
    • ৬. উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি (সারের ওপর মাটির আসক্তি):
      রাসায়নিক সারের কারণে মাটি নিজের উর্বরতা হারিয়ে ফেলে। ফলে প্রতি বছর একই পরিমাণ ফসল পেতে আগের চেয়ে বেশি পরিমানে সার দিতে হয়, যা কৃষকের উৎপাদন খরচ অনর্থক বাড়িয়ে দেয়।

    🌿 সমাধানের পথ: জৈব সার ব্যবহার করুন


    রাসায়নিক সারের এই ভয়াবহ ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মাটিকে বাঁচাতে এবং বিষমুক্ত ফসল ফলাতে জৈব সারের কোনো বিকল্প নেই।
    জৈব সার হলো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি সার, যা মাটির গঠন উন্নত করে এবং গাছে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান ধীরে ধীরে সরবরাহ করে। এটি মাটির জীববৈচিত্র্য বাড়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদে জমির উর্বরতা ধরে রাখে।
    💚 জৈব সার ব্যবহারের সেরা উপকারিতাসমূহ:

    • মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে: মাটিতে প্রাকৃতিক পুষ্টি যোগ করে মাটির স্বাস্থ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে।
    • জলধারণ ক্ষমতা বাড়ায়: মাটির পানি ও বাতাস ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ায়।
    • গাছের স্বাভাবিক ও দ্রুত বৃদ্ধি: গাছের শিকড় মজবুত করে এবং সুষম বৃদ্ধি নিশ্চিত করে।
    • ফসলের মান ও স্বাদ বাড়ায়: রাসায়নিকমুক্ত হওয়ায় ফল ও সবজির আসল স্বাদ ও পুষ্টি বজায় থাকে।
    • পরিবেশের জন্য নিরাপদ: মাটি, পানি বা পরিবেশের কোনো ক্ষতি না করে টেকসই কৃষি নিশ্চিত করে।

    ♻️ ঘরে বসেই কীভাবে তৈরি করবেন জৈব সার? (DIY জৈব সার)

    আপনার বাড়ির আশেপাশের বা রান্নাঘরের ফেলনা উপাদান দিয়েই খুব সহজে চমৎকার জৈব সার তৈরি করতে পারেন:
    প্রয়োজনীয় উপাদান:

    • গাছের ঝরা পাতা ও শুকনো ডালপালা
    • রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট (সবজির খোসা, চায়ের পাতা ইত্যাদি) ও ফলের খোসা
    • গরুর গোবর বা অন্যান্য পশুর মল
    • সামান্য মাটি ও অল্প পানি
      তৈরির পদ্ধতি:
      সব উপাদান একসঙ্গে একটি গর্তে বা পাত্রে স্তূপ করে রেখে দিন। হালকা আর্দ্রতা বজায় রাখতে মাঝেমধ্যে সামান্য পানি ছিটিয়ে দিন। কিছুদিন পর এসব পচে গিয়ে তৈরি হবে চমৎকার পুষ্টিকর জৈব সার, যা সরাসরি মাটিতে বা গাছের গোড়ায় ব্যবহার করতে পারবেন।

    📌 আগামী পর্বের ঘোষণা:


    জৈব সারের কিন্তু একাধিক চমৎকার ও কার্যকরী ধরণ রয়েছে— যেমন সবুজ সার (Green Manure), ভার্মিকম্পোস্ট (Vermicompost), ট্রাইকো কম্পোস্ট (Tricho Compost) ইত্যাদি। এগুলোর তৈরি পদ্ধতি এবং কোন গাছে কীভাবে ব্যবহার করলে সেরা ফলাফল পাওয়া যায়, তা নিয়ে আমরা খুব শীঘ্রই আলাদা একটি পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করব।

    🌏 আমাদের বার্তা:

    কৃষি ও মাটিকে বাঁচাতে, বিষমুক্ত খাবার পেতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ পরিবেশ রেখে যেতে আসুন রাসায়নিক সার বর্জন করি এবং জৈব সারের ব্যবহার বাড়াই।
    “প্রকৃতিকে বাঁচান | জৈব সার ব্যবহার করুন”
    “সুস্থ মাটি, সমৃদ্ধ কৃষি, নিরাপদ ভবিষ্যৎ!”
    — সোহাগ এগ্রো (Sohag Agro)


  • বাংলাদেশের জনপ্রিয় ৬ জাতের কলা: বৈশিষ্ট্য, পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা

    বাংলাদেশের জনপ্রিয় ৬ জাতের কলা: বৈশিষ্ট্য, পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা

    কলা আমাদের দেশে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকা অন্যতম পুষ্টিকর ও শক্তির উৎস। এতে থাকা পটাশিয়াম, ভিটামিন B6, ভিটামিন C, ডায়াটারি ফাইবার এবং প্রাকৃতিক শর্করা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখা এবং হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করতে দারুণ ভূমিকা রাখে।

    ৬ জাতের কলার পরিচিতি, বৈশিষ্ট্য ও গুণাগুণ:

    ১. সাগর কলা

    সাগর কলা

    বৈশিষ্ট্য: আকারে বেশ বড়, লম্বা ও ছাল মসৃণ। পাকার পর চমৎকার হলুদ রঙ ধারণ করে এবং ভেতরের অংশ নরম ও মাখনের মতো হয়।

    গুণাগুণ: প্রচুর পটাশিয়াম ও প্রোটিন সমৃদ্ধ। শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের পর শরীরকে দ্রুত রিচার্জ করতে ও মাংসপেশির টান দূর করতে এটি সবচেয়ে কার্যকর।

    ২. সবরি কলা

    সবরি কলা

    বৈশিষ্ট্য: মাঝারি আকৃতির, খোসা বেশ পাতলা ও সুগন্ধযুক্ত। পাকলে গায়ের রং উজ্জ্বল গাঢ় হলুদ হয় এবং স্বাদ বেশ মিষ্টি।

    গুণাগুণ: এটি অত্যন্ত সুপাচ্য। পেট ঠান্ডা রাখতে, এসিডিটি কমাতে এবং শিশু ও বয়স্কদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সবরি কলা উপযোগী।

    ৩. চিনি চম্পা কলা

    চিনি চম্পা কলা

    বৈশিষ্ট্য: আকারে ছোট ও চ্যাপ্টা। খোসায় ছোপ ছোপ ছোট তিল বা কালো দাগ থাকে এবং এর স্বাদ তীব্র মিষ্টি।

    গুণাগুণ: উচ্চমাত্রার ফাইবার থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে দারুণ কাজ করে। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

    ৪. বাংলা কলা

    বাংলা কলা

    বৈশিষ্ট্য: তুলনামূলকভাবে বেশ মোটা ও কোণাকৃতির। পাকার পর খোসা হালকা তামাটে বা লালচে-হলুদ বর্ণ ধারণ করে।

    গুণাগুণ: রক্তের হিমোগ্লোবিন বাড়াতে এতে থাকা আয়রন ও খনিজ উপাদান সাহায্য করে। রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য এটি দারুণ পথ্য।

    ৫. বিচি কলা (আটিয়া কলা)

    বিচি কলা (আটিয়া কলা)

    বৈশিষ্ট্য: ঐতিহ্যবাহী দেশি জাত, যার ভেতরের অংশে শক্ত বিচি থাকে। খোসা কিছুটা মোটা এবং মাংসল অংশ মিষ্টি ও শক্ত।

    গুণাগুণ: পেটের নানাবিধ সমস্যা, বিশেষ করে আমাশয় বা পাতলা পায়খানা নিয়ন্ত্রণে এটি ভেষজ ওষুধ হিসেবে কাজ করে। এটি ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস।

    ৬. আনাজি কলা (কাঁচা কলা)

    আনাজি কলা (কাঁচা কলা)

    বৈশিষ্ট্য: সবুজ রঙের এই কলা পাকা অবস্থায় ফল হিসেবে না খেয়ে কাঁচা অবস্থায় তরকারি বা রান্না করে খাওয়া হয়।

    গুণাগুণ: এতে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ বেশি থাকে এবং সুগার কম থাকে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ। গ্যাস্ট্রিক ও পেটের আলসার নিরাময়ে আনাজি কলা বেশ উপকারী।

    ৬ ধরনের কলার পুষ্টিগুণের তুলনামূলক তালিকা (প্রতি ১০০ গ্রামে আনুমানিক)

    কলার নামক্যালরি (Kcal)শর্করা (g)পটাশিয়াম (mg)ফাইবার (g)প্রধান পুষ্টি উপাদান ও বৈশিষ্ট্য
    সাগর কলা৯২২৩.৫৩৫৮২.৬উচ্চ পটাশিয়াম ও ইলেকট্রোলাইট
    সবরি কলা৯৮২৫.০৩৫০২.৪ভিটামিন B6, C ও সুপাচ্য শর্করা
    চিনি চম্পা১০২২৭.২৩৪০৩.১ডায়াটারি ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
    বাংলা কলা৮৮২২.৮৩৬০২.৮আয়রন ও প্রয়োজনীয় মিনারেল
    বিচি কলা৯৫২৪.০৩৩০৩.৫ক্যালসিয়াম ও পেটের পথ্যগুণ
    আনাজি কলা৭৮১৮.৫৩৭০৩.২রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ ও কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স

    ⚠️সতর্কতা

    প্রতিদিন অতিরিক্ত পরিমাণে কলা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য কিছু অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি ও জটিলতা তৈরি করতে পারে।

    • রক্তে পটাসিয়ামের আধিক্য (হাইপারক্যালেমিয়া): অতিরিক্ত পটাসিয়াম কিডনির কার্যক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে যাদের কিডনিজনিত জটিলতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি হৃদস্পন্দনে মারাত্মক সমস্যা তৈরি করতে পারে।
    • ওজন বৃদ্ধি ও রক্তের শর্করা বৃদ্ধি: কলায় প্রচুর ক্যালোরি ও কার্বোহাইড্রেট থাকে। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কলা রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে এবং নিয়মিত বেশি খেলে ওজনও বাড়তে পারে।
    • মাইগ্রেন ও মাথাব্যথা: কলায় থাকা টাইরামিন নামক উপাদান সংবেদনশীল ব্যক্তিদের মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে মাইগ্রেন বা তীব্র মাথাব্যথার উদ্রেক করতে পারে।
    • দাঁতের সমস্যা: কলায় প্রচুর শর্করা থাকায় তা দাঁতের এনামেলের ক্ষতি করতে পারে এবং সঠিকভাবে মুখ পরিষ্কার না করলে দাঁতে ক্যাভিটি বা ক্ষয় হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
    • হজমের গণ্ডগোল ও কোষ্ঠকাঠিন্য: অতিরিক্ত ফাইবার বা স্টার্চ একসঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে হজমে সমস্যা, পেট ফাঁপা বা কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে কাঁচা বা কম পাকা কলা খেলে।
    • অতিরিক্ত ঘুম ভাব: কলায় ম্যাগনেসিয়াম ও ট্রিপটোফ্যান থাকায় অতিরিক্ত খেলে শরীরে অতিরিক্ত শিথিলতা ও ঘুম ঘুম ভাব তৈরি হতে পারে।